
মোঃ শফিয়ার রহমান।পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : –১৯৯২ সালের ৩৭ নং আইন অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজের অধিভুক্তি সংক্রান্ত সংশোধিত রেগুলেশন অনুযায়ী অধিভুক্তির নিমিত্বে প্রার্থীত বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ১ জন এবং ডিগ্রী পাস পর্যায়ে ২ জন শিক্ষক সহ মোট ৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক।সে মোতাবেক স্ব-স্ব কলেজে ডিগ্রি পাস স্তরে প্রতি বিষয়ে ২ জন শিক্ষককে নিয়োগ না দিলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন সাবজেক্ট অধিভুক্তি অনুমোদন দেয়া হয় না এবং পুরাতন সাবজেক্ট অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ রাখা হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশনে ডিগ্রি (পাস)পর্যায়ে ২ (দুই) জন শিক্ষকের নিয়োগের বাধ্যতামূলক থাকলেও ডিগ্রি (পাস) স্তরে ৩ বছরের কোর্সে পাঠদান, টেস্ট পরীক্ষা, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, ইনকোর্স পরীক্ষা সহ সকল ইন্টারনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন সহ ডিগ্রি (পাস) স্তরের ৩ বছরের যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দীর্ঘ বছর যাবত মাত্র ১ জন শিক্ষক ২০২১-এর নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি কর্তৃক জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ কে সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধনীতে দীর্ঘদিনের এমপিও বঞ্চিত ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকে অন্তর্ভুক্ত না করে অনার্স ৪ বছরের কোর্সের জন্য ৫ জন শিক্ষক এবং মাস্টার্স ০১ বছরের কোর্সের জন্য ২ জন সহ মোট ৭ জন শিক্ষককে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ডিগ্রি স্তর এমপিওভুক্ত কলেজের নন এমপিও ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মন্ডল জানান, বেসরকারি কলেজে স্নাতক (পাস) পর্যায়ে ৩ বছরের শিক্ষা কার্যক্রমে ২০২১ -এ এমপিও নীতিমালায় ১ জন শিক্ষকের স্থলে অন্তত ২ জন শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং মাউশির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ০৯/০৪/২৫ ইং তারিখে ভাইস-চ্যান্সেলয়ের অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত স্মারক নং ০৭(প্র-১৫৬৪), জাতীঃবিঃ/কঃপঃ/৬৪০৩ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক মহাপরিচালক প্রফেসর ড.মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত০৪মে২০২৫খ্রিষ্টাব্দ৩৭.০২.০০০০.০০০.১০৫.৩৪.০০০২.২২.৬০৭ নং স্মারকে চিঠিতে ডিগ্রি (পাস) স্তরের তৃতীয় শিক্ষককে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর সবিনয় অনুরোধ করেন।এছাড়া শিক্ষামন্ত্রনালয়ে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে এমপিও ভুক্ত করণ ও ২০২১ -এর সংশোধনী নীতিমালা চূড়ান্ত মত বিনিময় সভায় ডিগ্রি (পাস) স্তরে ৩ বছরের কোর্সের জন্য ১ জন শিক্ষকের স্থলে অন্তত ২ জন শিক্ষককে (তৃতীয় শিক্ষক) নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নন এমপিও ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি -উজ্জ্বল কুমার মন্ডল যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছিলেন। এতদ সত্ত্বেও এই যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা না করে ২০২১-এর নীতিমালায় ডিগ্রি (পাস) স্তরে ৩ বর্ষের শিক্ষা পরিচালনার জন্য মাত্র ১ জন শিক্ষককে নীতিমালায় রেখে ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকে ২০২৫- এর নীতিমালা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।ডিগ্রি স্তরের শিক্ষক কে নীতিমালা বাহির রেখে অনার্স ০৪ বছরের কোর্সে ৫ জন শিক্ষক এবং মাস্টার্স ১ বছরের কোর্সে ২ জন সহ মোট ৭ জন শিক্ষক কে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ -এর নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল বেসরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষগণ ডিগ্রি (পাস) শাখায় শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালনা নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন। ডিগ্রী পাস স্তরে তৃতীয় শিক্ষক পদটি নীতিমালয় অন্তর্ভুক্ত না করায় এটি নন এমপিও (সৃষ্ট) পদ থাকায় এই পদে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছে না। এনটিআরসিএ নিয়োগ দিতে পারে শুধুমাত্র এমপিও ভুক্ত শূন্য পদে সৃষ্ট পদে নয়।উল্লেখ্য যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্রের মাধ্যমে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত করেছে। এ সকল ডিগ্রি (পাস) স্তরের শিক্ষকগণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের মাধ্যমে এমপিও ভুক্ত হতে পারলেও তাদেরকে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ -এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।ডিগ্রি স্তরে তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত না করায় দীর্ঘ বছর যাবত নিয়োগ জটিলতায় শিক্ষক শূন্যতার কারণে একজন শিক্ষক দিয়ে ডিগ্রি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা একেবারেই কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় দীর্ঘ বছর যাবত কিছু শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হতে পারছেন না। তারা বিনা বেতনে পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানোবেতর জীবনযাপন করছেন।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও এমপিও ভুক্ত হতে পারছে না এক যুগের ও বেশি দিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করা ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকরা। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট ২০২১ সাল পর্যন্ত গভর্নিং বডি কর্তৃক বৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদের নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে দ্বিতীয় বার মাউশি থেকে যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে পাঠালেও (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত না থাকার কারণে ঝুলে আছে চূড়ান্ত এমপিও প্রক্রিয়া। শিক্ষা মন্ত্রনালয় ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তির সম্মতির জন্য নামের তালিকা অর্থ মন্ত্রনালয়ে পাঠালে ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের এখতিয়ার ভুক্ত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ পূর্বক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ের উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২০২৫ -এর নীতিমালায় ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষক পদটি অন্তর্ভুক্ত না করে এ সকল শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ফাইল চালাচালি করে শুধু সময় ক্ষেপন করে যেন ডিগ্রি স্তরে তৃতীয় শিক্ষকদের নিয়ে তামাসার খেলা খেলছে।২০১৬ সাল পর্যন্ত বাদ পড়া ২৬৬ জন এবং ৩১ আগষ্ট ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৯৫ জন ডিগ্রি স্তরের মোট ৬৬১ জন তৃতীয় শিক্ষক এমপিও বিহীন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।প্রেরকমোঃ শফিয়ার রহমান।পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।০১৭১২-৩৩৩১৯৫
